দ্বিতীয় বর্ষ: ফিজিওলজি, কুলাইয়া তথা গুর্দা বা বৃক্ক( kidney )
ফিজিওলজি ঃ
দ্বিতীয় বর্ষ ঃ
কুলাইয়া তথা গুর্দা বা বৃক্ক( kidney )
বৃক্ক কে ইউনানী চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় কুলাইয়া,মূত্র বাহী নালিকে হালেবাইন,মূত্রথলি কে মাছানা ও মূত্র নালীকে মাজরায়ে বওল, মুত্র কে বওল বলে।
বৃক্ক বা কিডনীর অবস্থান :—দুইটি কিন্ডনী ঠিক পিঠের
উপর পোষ্টোরিয়র ওয়াল (Posterior wall) এর সংলগ্ন হইয়া উহার
সামনে অবস্থান করে। কিডনী উপরের শেষ থোরাসিক (Thoracic) ও
নিচে তৃতীয় ল্যাম্বার (Lumber) ভার্টিব্রার সামনে অবস্থান করে।
ডান দিকের কিডনী বাম দিকের চেয়ে নিচে থাকে; কারণ ডান
দিকের কিডনীর উপরে লিভার থাকে। প্রতিটি কিডনী ৪–৫ লম্বা ও ২
চওড়া হয়। পূর্ণ বয়স্ক লোকের কিডনীর ওজন হয় ১৪০ গ্রাম। কিডনীর
আকৃতি বরবটির ভিতরের দানার মত দেখায়। ডান দিকের কিডনীর
সামনে—লিভার, বৃহৎ অস্ত্র, ডিউডেনাম ও ক্ষুদ্র অস্ত্র এবং বাম দিকের টির
সামনে— প্লীহা, অগ্নাশয়, পাকস্থলীর অংশ, ক্ষুদ্র অস্ত্র ও বৃহৎ অস্ত্র থাকে।
দুইটি কিডনীর মাথায় দুইটি টুপির আকৃতির গ্রন্থি থাকে ।
ii) বৃক্ক বা কিডনীর গঠন ঃ— মোটামুটি কিডনীর গঠনকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
ক) বাহিরের অংশ করটিক্স (Cortex) — ইহা উপরের অংশ
এবং ঘণ বা গাঢ় পারপল (Purple) রঙের হয়। ইহা ফাইব্রাস টিসু দ্বারা একটি নেফ্রন
খ) মেডুলা (Medulla) :– ইহা অনেকটা পিড়ামিড আকৃতির
অনেকগুলি বস্তু দিয়ে গঠিত। ইহারা পিরামিড অব কিডনী (Pyramid
of Kidney) নামে পরিচিত। ইহা ভিতরের দিক হইতে আসিয়া
কিডনীর পেলভিসের সঙ্গে যুক্ত। তারপর ইউরেটার শুরু হয়।কিডনীর মেডুলা (Medulla) অনুবীক্ষণ দিয়ে দেখিলে দেখা যায় যে
ইহা অনেক ক্ষুদ্র নিফ্রোন (Nephron) দিয়ে গঠিত। প্রতিটি কিডনীতে
প্রায় দশ লক্ষ করিয়া নিফ্রোন (Nephron) থাকে। ইহারা প্রকৃতপক্ষে
রক্তের ছাকনির কাজ করে।
শিরা ও ধমনীর সরু সরু ক্যাপিলারী ঘিরিয়া থাকে দুইটি আবরণ।
ইহা রক্ত ছাকিয়া তাহার অপ্রয়োজনীয় পদার্থ বাহির করে। দ্বিতীয়
আবরণে মূত্র জমে এবং অতি সূক্ষ্ম টিবুল (Tuble) এর মধ্যে চলিয়া
যায় ৷ এইভাবে বিভিন্ন অংশ কাজ করে বলিয়া কিডনী হইতে নিঃসৃত
তরল পদার্থ ধীরে ধীরে সৃষ্টি হয়। এই সরু শিরা ও ধমনীকে বলে।
এফারেন্ট ধমনী ও ইফারেন্ট ধমনী। ক্যাপিলারী (Capillary) এর
এই টাফট (Tuft) কে বলে ব্লুমারাস (Clomerus) এবং তাহার উপরে
কভার (Cover) স্তরটি হলো বোম্যান্‘ ক্যাপসুল।
মোঃ মহিউদ্দিন
প্রভাষক, ভোলা ইসলামিয়া ইউনানী মেডিকেল কলেজ।

No comments