চতুর্থ বর্ষ : জারাহিয়াত বা শল্যবিদ্যার (Surgery) উদ্দেশ্য গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা।
জারাহিয়াত বা শল্যবিদ্যার (Surgery) উদ্দেশ্য গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা।
একজন চিকিৎসকের জারাহিয়াত বা শল্যবিদ্যা (Surgery)সম্পর্কিত জ্ঞান
থাকা একান্তই আবশ্যক।
প্রত্যেক চিকিৎসকেরই উদ্দেশ্য রোগী কে সুচিকিৎসা দেওয়া এবং আরোগ্য সাধন করা।
রোগ নিয়ে যন্ত্রণাক্লিষ্ট রোগী চিকিৎসকের নিকট আসে চিকিৎসার জন্য। চিকিৎসক সাধারণতঃ দুইটি পদ্ধতিতে রোগ নিরাময় করে থাকেন।
যথা:
ক) ঔষধ প্রয়োগ পদ্ধতি বা কনজারভেটিভ পদ্ধতি৷
খ) জারাহিয়াত বা শল্য চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচার পদ্ধতি ।
কনজারভেটিভ পদ্ধতিতে ঔষধের সাহায্যে রোগীর চিকিৎসা করা হয় এবং
অস্ত্রোপচার পদ্ধতিতে জারাহিয়াত বা সার্জারীর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
চিকিৎসকের প্রথম কর্তব্য হইল রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা শুরু করা। চিকিৎসা বিধান মতে চিকিৎসা সম্ভবপর হলে চিকিৎসক ঔষধ দ্বারাই রোগীর চিকিৎসা করেন।
যদি ঔষধ প্রয়োগ দ্বারা চিকিৎসা সম্ভবপর না হয় তবে ক্ষেত্র বিশেষে চিকিৎসককে জারাহিয়াত বা সার্জারীর আশ্রয় গ্রহণ করতে হয় এবং সার্জনের নিকট রোগীকে প্রেরণ করতে হয়।
চিকিৎসকের যদি জারাহিয়াত বা শল্যবিদ্যা সম্পর্কে জ্ঞান না থাকে তবে তিনি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারবেন না।
যে কোন রোগীর জন্য অস্ত্রোপচার পদ্ধতিতে চিকিৎসা করতে হবে।
অস্ত্রোপচারের রোগীকে ঔষধ পদ্ধতিতে ব্যর্থ চিকিৎসার চেষ্টা করলে রোগীর অবস্থা
সংকটাপন্ন হয়ে পড়বে। এমনকি রোগীকে বাঁচিয়ে রাখাই কষ্টকর হবে।
যেমন হাড় ভাঙ্গে গেলে অস্ত্রোপচারের দ্বারা হাড় জোড়া না লাগালে শুধু ঔষধ দ্বারা
কোন কাজ হবে না।
অনেক সময় রোগাক্রান্ত মৃত্যু সংকটাপন্ন রোগীর অপারেশনের প্রজনিয়তা হয়ে পড়ে। তাই চিকিৎসক হিসাবে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান লাভ করতে হলে জারাহিয়াত বা সার্জারী সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জন এবং চিকিৎসককে শল্য বিদ্যায় পারদর্শী হতে হবে।
এ কারণেই একজন ভাল চিকিৎসকের জারাহিয়াত বা শল্যবিদ্যা ( surgery ) পাঠের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
মোঃ মহিউদ্দিন
প্রভাষক, ভোলা ইসলামিয়া ইউনানী মেডিকেল কলেজ।

No comments