তৃতীয় বর্ষ, তৃতীয় এ্যাসাইনমেন্ট, প্যাথলজী, ১-কোষ (Cell), এলতেহাব বা প্রদাহ
১-কোষ (Cell),
(Cell) কোষ হলো জীব দেহের গাঠনিক ও কার্যকরী একক । মানব দেহের গঠন ও কাজের একককে কোষ বলে। কোটি কোটি কোষের সমন্বয়ে মানব দেহ গঠিত। কোষের আকার ৫-৫০ ন্যানোমিটার হতে পারে। মানব দেহের সবচেয়ে বড় কোেষ হলো ডিম্বাণু (১৩০ ন্যানোমিটার)
সাইটোপ্লাজম প্লাজমা পর্দা থেকে নিউক্লিয়াস পর্দা পর্যন্ত বিস্তৃত জেলীর মতো সান্দ্র, অসচ্ছ অর্ধতরল, দানাদার প্রোটোপ্লাজমীয় অংশকে সাইটোপ্লাজমে নিম্নলিখিত অংশ সমূহ দেখা যায় যথা ১) মাইট্রোকন্ডিয়া (Mitochodria)- এখানে কোষের শ্বসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় । মাইট্রোকন্ডিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউস বলে । এটি ATP তৈরি করে। ATP কোষের শক্তি হিসাবে ব্যহহৃত হয়। কেননা খাদ্যের সারাংশ ভেঙ্গে এখানে শক্তি উৎপন্ন করে । ২) রাইবোজম (Ribosome)- ইহা ছোট ছোট কণার ন্যায় । এর প্রধান কাজ হচ্ছে আমিষ (Protein) তৈরী করা । ৩) লাইসোজোম (Lysosome) – ইহা এনজাইমে পরিপূর্ণ জীবাণু ও কোষের বর্জ্য পদার্থ ধ্বংস করার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় অঙ্গানু । ৫) গলজি বস্তু (Golgibody) - এগুলি নিউক্লিয়াসের কাছে থাকে এবং ইহা আমিষ প্রক্রিয়াজাত করা ও কোষের বাহিরে তাহা প্রেরণে সহায়তা করে । ৬) এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকোলাম (Endoplasmic Reticulum) –জালের মতো বিস্তৃত, সুক্ষ্মনল দ্বারা গঠিত, কোষে প্রোটিন ও শর্করা তৈরী এবং এদের সাথে অন্যান্য যৌগ তৈরী ও যোগ করে, কোষের বাহিরে প্রেরণে সহায়তা করে । ৭) সেন্ট্রিওল (Centriole) - কোষ বিভাজনে সহায়তা করে ।
কোষ অবক্ষয়/ফাসাদে খুলাইয়া (Digeneration) প্যাথলজী তৃতীয় বর্ষ কোষ ববিনষ Digeneration : যখন কোন কোষ রোগগ্রস্থ হয় তখন তাকে Digeneration বা আপজাত্য বলে। আপজাত্য হলেও নিউক্লিয়াস ঠিক থাকে ফলে স্বাভাবিক পরিবেশ পেলে উক্ত কোষ পূর্ব অবস্থায় পরিনত হতে পারে। Digeneration এর শ্রেণী বিভাগ ১. ফ্যাটি ডিজেনারেশন (Faty degenaration) ২. এলবুমিনাস ডিজেনারেশন (Albumin degenaration ) ৩. কলোয়েড ডিজেনারেশন (Colloid degenaration) ৪. হায়ালাইন ডিজেনারেশন (Hyalion degenaration ) ৫. ড্রপসিক্যাল ডিজেনারেশন (Dropsical degenaration) ৬. ফসফোরাস ডিজেনারেশন (Phosphoid degenaration) ৭. লাইপয়েড ডিজেনারেশন (Lipoid degenaration) ৮. মিউকয়েড ডিজেনারেশন (Mucoid degenaration ) ৯. গ্লাইকোজেন ডিজেনারেশন (Glycoidu degenaration) ১০. অ্যামাইলয়েড ডিজেনারেশন (Amyloid degenaration) মোঃ মহিউদ্দিন প্রভাষক, ভোলা ইসলামিয়া ইউনানী মেডিকেল কলেজ।
এলতেহাব বা প্রদাহ
যে প্রতিক্রিয়ার ফলে দেহের তন্তুর ভিতর কতকগুলি বিশেষ পরিবর্তন দেখা দেয় তাকে প্রদাহ (Inflamation) বলে। এই প্রতিক্রিয়া শরীরের ভিতরের কোন অস্বস্তিকর বা যন্ত্রনাদায়ক কারণে ঘটে। প্রতিক্রিয়াশীল তন্ত্রর ভিতর কতকগুলি পরিবর্তন দেখা যায়। এই পরিবর্তনের ফলে কিছু লক্ষনের সৃষ্টি হয় । প্রদাহের কারণ কোন জীবাণু দ্বারা আক্রমণ বা জীবাণু দেহের মধ্যে প্রবেশ প্রদাহের অণ্যতম কারণ। আঘাত দ্বারাও হতে পারে। কিম্বা অন্য কোন জ্বালা বা ক্ষণস্থায়ী ঔষধের দ্বারাও ইহা সম্ভব হতে পারে। ১। (ক) ব্যাকটেরিয়া • স্ট্যাফাইলোকক্কাস স্ট্রেপটোকক্কাস হোমোলাইটিকাস . গনোকক্কাস • মেনিনগোকক্কাস (খ) ছত্রাক • ক্যানডিডা (গ) পরজীবী মাইক্রোফাইলেরিয়া ২। (ক) রাসায়নিক ফেনোল (খ) ভৌতিক আঘাত চাপ ৩ । অটো ইমিউনিটি প্রদাহের লক্ষণ ১. বর্ণ ৪ প্রদাহ স্থান রক্তাধিক্যের ফলে লাল হয় । ২. ষ্ফীতি ঃ কোষের বৃদ্ধি ও ক্ষরণ জমা হওয়ার সময় স্থানটি ৩. তাপরক্তাধিক্যেতার ফলে প্রদাহিত স্থান গরম হয়। ৪. ব্যথাস্থানটিতে ব্যাথা অনুভব হয়। প্রদাহ দুই প্রকার যথাঃ (১) তরুন প্রদাহ (Acute Inflamation) (২) পুরাতন প্রদাহ (Chronic Inflamation) তরুণ বা ক্ষনস্থায়ী প্রদাহ ঃ (Acute Inflamation) সংজ্ঞা ঃ যে প্রদাহ কোন আঘাতের প্রতিক্রিয়ায় দ্রুত সংঘটিত হয় এবং কয়েক ঘন্টা বা দিন স্থায়ী হয়, তাকে তরুন বা ক্ষনস্থায়ী প্রদাহ (Acute Inflamation) বলে ৷ কারণঃ বিভিন্ন জীবাণুর সংক্রামণ যেমন ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, প্যারাসাইট প্রভৃতি। অজৈব উত্তেজক রক্ত ক্ষরণ। – যেমন আঘাত, ঠান্ডা, গা গরম, রেডিয়েশন অ্যান্টিজেন অ্যান্টিবডী প্রতিক্রিয়া যেমন এলার্জী। পুরাতন প্রদাহঃ (Chronic Inflamation) সংজ্ঞা ঃ পুরাতন প্রদাহ দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়ে পর্যায়ক্রমে ক্ষরণ, ধ্বংস এবং নতুন কোষ ও টিসুর জন্ম দিয়ে থাকে তাকে পুরাতন প্রদাহ বলে । কারনএর কারণ তরুণ প্রদাহের মতো তবে যে কোন প্রদাহ প্রথমে তরুণ প্রদাহ হিসাবে শুরু হয় ফলে পুরাতনরূপ ধারণ করে।
ডিজেনারেশন (Degenration)
ক) যখন কোন কোষ (Cell) রোগগ্রস্থ হয় তখন তাহাকে ডিজেনারেশন বলে। এই অবস্থায় কোষের
নিউক্লিয়াস ঠিক থাকে, ফলে স্বাভাবিক পরিবেশ পাইলে উক্ত কোষ পূর্ব অবস্থায় পরিণত হইতে পারে।
(থ) ডিজেনারেশন দশ প্রকার
যথা
(১) ফ্যাটি ডিজেনারেশন -
(২) অ্যালবুসিনাস ডিজেনারেশন
(৩) কলোয়েড ডিজেনারেশন
(
হায়ালাইন ডিজেনারেশন
(৫) উপসিক্যাল ডিজেনারেশন
(৬) কাস কোয়াস ডিজেনারেশন
(৭) লাই পয়েড ডিজেনারেশন
(৮) মিউ কয়েড ডিজেনারেশন
(৯) গ্লাইকোজেন ডিজেনারেশন
(১০) অ্যামাইলয়েড ডিজেনারেশন
(গ) ফ্যাটি ডিজেনারেশন বর্ণনা কর।
উত্তর :
ফ্যাটি বা চর্বি যখন কোন কোষের সাইটোপ্লাজমে বিন্দু আকারে সঞ্চিত হয় তখন এই প্রকার ডিজেনারেশন সৃষ্টি হয়। ত্রুটি
ড্রপ সাইটোপ্লাজম ইমালশন তৈয়ার করে ফসফরাস বিষে আক্রান্ত কোষ খুব স্ফীত হয়। যেমন- লিভার কোষের ক্যাটি
ডিজেনারেশন।
ফ্রাটি ডিজেনারেশন-এর কারণ
(ক) অক্সিজেন সরবরাহ হ্রাস।
(খ) ফসফরাস, কার্বন টেট্রাক্লোরাইড, আর্সেনিক প্রভৃতি বিষ দ্বারা আক্রান্ত হওয়া।
(গ) খাদ্যে প্রোটিনের পরিমাণ হ্রাস।
(ঘ) স্নায়ু প্রবাহের ত্রুটি।
ফ্যাটি ডিজেনারেশন আক্রান্ত অঙ্গের নাম -
(১) লিভার
(২) কিডনী।
(৩) হৃদপিণ্ড
ইত্যাদি অঙ্গে বেশী আক্রান্ত হয়।
প্রভাষক,

No comments