প্রথম বর্ষ: তৃতীয় এ্যাসাইনমেন্ট, কুল্লিয়াতে তিব্ব ১-(উমূরে তাবীইয়্যাহ্ ) ২-(আহওয়ালে বদন ) ২. আহওয়ালে বদন বা শারীরিক অবস্থা সমুহ (Body conditions)। ৩. নবয বা নাড়ী (Pulse), বাওল বা মুত্র (Urine), বারায বা মল (Stool) এর পূর্ণ বিবরণ।
কুল্লিয়াতে তিব্ব (উমূরে তাবীইয়্যাহ্ )
১. উমূরে তাবীইয়্যাহ্ বা প্রাকৃতিক বিষয় সমূহ (Matters of physis nature) এর পূর্ণ বিবরণ। যথা :
মিযাজ বা প্রকৃতি (Temperament) ও আখলাত বা ধাতুরস (Humours)।
----------------------------
মিযাজ বা প্রকৃতি (Temperament)
-------------------------
মিযাজ বা প্রকৃতি (Temperament) :
মিযাজ শব্দের আভিধানিক অর্থ মিশ্রন বা সংমিশ্রন। আরকান বা বুনিয়াদী উপাদান সমূহে বিদ্যমান বিভক্ত বিপরীতধর্মী ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশের ইমতিযাজ বা পারস্পরিক সংমিশ্রন কালীন ক্রিয়া এবং প্রতিক্রিয়ার ফলে সৃষ্ট নুতন যৌগের স্বভাবিক বৈশিষ্টকে মিযাজ (Temperament) বা প্রকৃতি ,স্বভাব বলে৷
প্রকৃত পক্ষে মিযাজ দেহের রাসায়নিক অবস্থার প্রতিচ্ছবি। এজন্য ইউনানী চিকিৎসা বিজ্ঞানে মিযাজ তত্ত্ব অতীব গুরুত্বপূর্ণ।
মিযাজ এর অবস্থা চারটি -
* হার বা উষ্ণ। * ইয়াবিস বা শুষ্ক। * বারিদ বা শীতল। * রতব বা আর্দ্র।
ক্রিয়া গত দিক থেকে মিযাজের এ চারটি অবস্থা দু,ভাবে বিভক্ত ।
১. কাইফিয়াতুল ফা-ইলাহ্ বা কর্মকারক অবস্থা। ইহারা দুটি -
(ক) হার বা উষ্ণ। (খ) বারিদ বা শীতল।
২ , কাইফিয়াতুল মুনফাইলাহ্ বা কর্মগ্রাহক অবস্থা। ইহারা দুটি -
(ক) রতব বা আর্দ্র। (খ) ইয়াবিস বা শুষ্ক।
মিযাজ এর প্রকারভেদ :
মিযাজ দুই প্রকার ।
১ , মিযাজে মুতাদিল বা পরিমিত প্রকৃতি।
২ , মিযাজে গায়রে মুতাদিল বা অপরিমিত প্রকৃতি।
১ , মিযাজে মুতাদিল বা পরিমিত প্রকৃতি।
পরিমিত প্রকৃতি বলতে চারটি অবস্থা উষ্ণতা , শীতলতা , শুষ্কতা ও আর্দ্রতার পরিমাণ সমান হওয়া বুঝায় ; যেটা কখনোই সম্ভব নয় । অতএব এটা কাল্পনিক ।
২ , মিযাজে গয়রে মুতাদিল বা অপরিমিত প্রকৃতি :
এটা দুই ভাগে বিভক্ত ।
(ক) মিযাজে মুফরাদ বা একক প্রকৃতি।
যাতে একটি অবস্থার আধিক্যতা প্রকাশ পায় ।
(খ) মিযাজে মুরাক্কাব বা মিশ্র প্রকৃতি।
যাতে দুটি অবস্থার আধিক্যতা প্রকাশ পায় ।
মিযাজের একক অবস্থা চারটি -
১. হার বা উষ্ণ। ২. ইয়াবিস বা শুষ্ক। ৩. বারিদ বা শীতল। ৪. রতব বা আর্দ্র।
মিযাজের মিশ্র অবস্থা চারটি -
১. হার ওয়া রতব বা উষ্ণ ও আর্দ্র ।
২. হার ওয়া ইয়াবিস বা উষ্ণ ও শুষ্ক ।
৩. বারিদ ওয়া রতব বা শীতল ও আর্দ্র।
৪. বারিদ ওয়া ইয়াবিস বা শীতল ও শুষ্ক ।
সাময়িক ভাবে মিযাজে গায়রে মুতাদিল বা অপরিমিত প্রকৃতি এর কারণে সৃষ্ট রোগ কে মারযে সূয়ে মিযাজ বা বিঘ্ন স্বভাবের রোগ বলে।
অঞ্চল ভিত্তিক মিযাজ :
মানুষ যে অঞ্চলে বসবাস করে সে অঞ্চলের একটি প্রভাব ও তার উপর পরে । সে হিসাবে বসবাসকৃত অঞ্চল বুঝে মানুষের মিযাজ নির্ণয় করা যায় । প্রাচীন ইউনানী চিকিৎসকগণের মত অনুযায়ী খত্তে এস্তাওয়া বা ভূ-বিষুবরেখা তথা নিরক্ষরেখা এবং মুআদ্দিলুন নাহার বা দিবারাত্র সমান স্থান এর মানুষ গুলো পরিমিত প্রকৃতির হয় । এরপর একলীমে র-বে বা চতুর্থ অঞ্চল এর মানুষের মিযাজ পরিমিত ।
বয়স ভিত্তিক মিযাজ -
বয়স বিবেচনায় যুবকদের মিযাজ স্বাভাবিক। শিশুদের মিযাজ যুবকদের মত উষ্ণ হলেও আর্দ্রতার পরিমাণ বেশী । এ জন্য শিশুদের উষ্ণতা কোমলধর্মী এবং যুবকদের উষ্ণতা উগ্রধর্মী । পৌঢ় ও বৃদ্ধদের মিযাজ শীতল ও শুষ্ক। বৃদ্ধদের মধ্যে এক ধরনের সাময়িক আর্দ্রতা বিদ্যমান থাকে। পুরুষের তুলনায় নারীদের মিযাজ শীতল ও আর্দ্রতার নিকটবর্তী ।
পেশাগত মিযাজ -
পেশাগত দিক বিবেচনায় ও মিযাজের তারতম্য দেখা যায় । উষ্ণ পরিবেশে থাকলে উষ্ণতা এবং শীতল পরিবেশে থাকলে শীতলতার প্রভাব সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক।
অঙ্গ-প্রতঙ্গের মিযাজ -
অঙ্গের মিযাজ নির্ভর করে প্রাণরাসায়নিক যৌগসমূহ তথা আখলাত বা ধাতুরস সমূহের আনুপাতিক হার ও ভারসাম্যের উপর ।
১. স্তর অনুযায়ী পরিমিত মিযাজের অঙ্গ -
* তর্জনী আঙ্গুলের মাথার ত্বক
* আঙ্গুলের সাধারণ ত্বক বা
* হাতের তালুর মধ্যস্থলের ত্বক
* হাতের করতালের ত্বক
* হাতের ত্বক
* সমস্ত দেহের ত্বক।
২. উষ্ণ মিযাজের স্বভাবের অঙ্গ।
* হৃদপিণ্ড * যকৃত * গোশত * পেশী * ধমনী * শিরা * বৃক্ক * অন্ডকোষ।
৩. শীতল মিযাজের অঙ্গ।
* হাড় * সন্ধিবন্ধনী * স্নায়ুতন্ত্র
* কোমলাস্থি * মগজ ও সুষুম্নাকান্ড ।
৪. আর্দ্র মিযাজের অঙ্গ।
* হালকা চর্বি * মোটা চর্বি * গোশত * মগজ ও সুষুম্নাকান্ড।
৫. শুষ্ক মিযাজের অঙ্গ।
* চুল * হাড় * কোমলাস্থি * সন্ধিবন্ধনী ।
আখলাত বা ধাতুরস (Humours)।
----------------------------
৩. আখলাত বা ধাতুরস (Humours) ।
আরবী খিলত শব্দের বহুবচন আখলাত। অর্থ মিশ্রণ বা মিশ্রিত বস্তু। মানব দেহে রক্ত শ্লেষ্মা , পিত্ত ও অম্ল একত্রে মিশ্রিত থাকায় মানব দেহের রস পদার্থকে আখলাত বলে। এ জন্য এর বাংলা করা হয় দেহরস বা ধাতুরস।
মানবদেহের রতব বা আর্দ্র ও সাইয়াল বা প্রবাহমান বস্তু হচ্ছে আখলাত।
উল্লেখ্য যে এ ধাতুরস তত্ত্বের উপর-ই ইউনানী চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত।
দেহের প্রতিটি অংশের প্রতিমুহূর্তে সঞ্চালন ও বিপাকীয় পরিবর্তন চলমান । এ সকল সঞ্চালন প্রক্রিয়া এবং গঠনগত পরিবর্তন পদ্ধতি কে হজম বা পাক বলে । এ হজম প্রক্রিয়া হজমে মেদী , হজমে কাবেদী , হজমে উরূকী বা এবং হজমে ওযউই-তে বিভক্ত । এ চার প্রকারের হজম দ্বারা দেহের রসায়নাগারে অসংখ্য বস্তু সৃষ্টি হয়ে রক্ত প্রবাহে মিলিত হতে থাকে ।
প্রথম পাক
হাজমে মেদী বা পাকস্থলীর পাক :
খাদ্য পাকস্থলী ও অন্ত্রে পৌঁছার পর যে পাক হয় তাকে পাকস্থলীর পাক বলে । এ পাকে খাদ্য যবের পানির মত সমসত্ত গাঢ় দ্রবনে রুপান্তরিত হয় । ইহাকে ইউনানী পরিভাষায় কাইলূস বলে ।
দ্বিতীয় পাক
হাজমে কাবেদী বা যকৃতের পাক :
পাকস্থলী ও অন্ত্রে তৈরি কাইলূসের নির্যাস উরূকে মাসারীকা বা কৌষিক নালী (Mesenteric veins) এর মাধ্যমে যকৃতে পৌঁছে যে পাক হয় তাকে যকৃতের পাক বলে । এ পাকের পর ইহা লাল বর্ণের গাঢ় তরলে রূপান্তরিত হয় । ইহাকে ইউনানী পরিভাষায় কাইমূস বলে ।
কাইমূসের নির্যাসই ধাতুরস বা আখলাত । দ্বিতীয় পাকের মাধ্যমে আখলাতের সৃষ্টি হয় । আখলাত নামক রস পদার্থ রংয়ের ভিন্নতার দিক বিবেচনায় চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে । লাল রংয়ের খিলতকে দাম বা রক্ত، সাদা (সচ্চ) রংয়ের ধাতুরস কে বলগম বা শ্লেষ্মা ، যর্দি ( লাল মিশ্রিত হলুদ ) রংয়ের ধাতুরস কে সফরা বা পিত্ত এবং কালো রংয়ের ধাতুরস কে সাওদা বা অম্ল নামে অভিহিত করা হয় ।
তৃতীয় পাক
হজমে উরূকী বা শিরাসমূহের পাক :
যকৃত থেকে কাইমূসের নির্যাস তথা আখলাত শিরায় যাওয়ার পর যে পাক হয় তাকে হজমে উরূকী বলে । দেহরসের এ পরিবর্তীত রূপকে রতূবাতে ছানিয়াহ্ বা দ্বিতীয় রস বলে ।
চতুর্থ পাক
হজমে ওযউই বা অঙ্গের পাক :
রতূবাতে ছানিয়ার যে পাক অঙ্গে সংঘটিত হয় তাকে হজমে ওযউই বা অঙ্গের পাক বলে ।
প্রকাশ থাকে যে শেষোক্ত তিনটি হজম রস কাইমূসেরই অন্তর্ভুক্ত ।
দ্বিতীয় পাকের মাধ্যমে সৃষ্ট আখলাত যদি স্বাভাবিক হয় তবে তা দেহের প্রয়োজন পূরণ করে মিযাজকে পরিমিত রাখে , ও সুস্থ্যতা বজায় থাকে । এ জাতীয় খিলতকে খিলতে মাহমূদ বা উত্তম ধাতুরস বলে। অপরদিকে প্রত্যেক অস্বাভাবিক খিলত দেহের ক্ষতি সাধন করে তথা রোগ সৃষ্টি করে । এ জাতীয় খিলতকে খিলতে রদী বা মন্ধ ধাতুরস বলে।
অর্থাৎ আখলাতের সঠিক গঠন ও সঠিক সম্পর্ক সুস্থ্যতা বজায় থাকে এবং এদের অপরিমিত সম্পর্ক ও অসম প্রবৃদ্ধি রোগের কারণ ।
আখলাত চারটি -
১ , দাম বা রক্ত। ২ , বালগম বা শ্লেষ্মা। ৩ , সফরা বা পিত্ত। ৪ , সাওদা বা অম্ল ।
১ , দাম বা রক্ত :
-------------
ধাতুরসের মধ্যে শ্রেষ্ট হচ্ছে দাম বা রক্ত ।
ইহা দূই প্রকার -
১. দামে তবাঈ বা স্বাভাবিক রক্ত । ২. দামে গয়রে তবাঈ বা অস্বাভাবিক রক্ত।
১. দামে তবাঈ বা স্বভাবিক রক্ত -
রক্তের মিযাজ :
স্বাভাবিক রক্তের স্বভাব হার ওয়া রতব বা উষ্ণ ও আর্দ্র ।
দামে তবাঈর বৈশিষ্ট্য -
* গাঢ় লাল * দুর্গন্ধমুক্ত * খুব মিষ্টি * পরিমিত ঘনত্ব ।
২. দামে গয়রে তবাঈ বা অস্বভাবিক রক্ত।
যা বর্ণ, গন্ধ, স্বাদ, ও ঘনত্বের দিক থেকে দামে তবাঈ এর বিপরীত।
২ , বালগম বা শ্লেষ্মা :
----------------
শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার দিক দিয়ে ধাতুরস চতুষ্টয়ের মধ্যে রক্তের পরই বালগম বা শ্লেষ্মার স্থান ।
মিযাজে বালগম বা শ্লেষ্মার প্রকৃতি :
বারিদ ওয়া রতব বা শীতল ও আর্দ্র।
মানাফিআতে বালগম বা শ্লেষ্মার উপকারিতা :
১ , দেহে রক্তের অভাব দেখা দিলে শ্লেষ্মা রক্তে পরিণত হয়ে দেহের খাদ্য যোগায় ।
২ , শ্লেষ্মা অঙ্গ-প্রতঙ্গ কে আর্দ্র রাখে , যাতে শুষ্ক হয়ে না যায় এবং অঙ্গ প্রতঙ্গেরক্রিয়াকলাপ সুচারুরূপে সম্পন্ন হয় ।
৩ , শ্লেষ্মিক স্বভাবের অঙ্গ-পতঙ্গের খাদ্য । বিশেষ করে শ্বেত রংয়ের অঙ্গ-প্রতঙ্গের । যেমন - মস্তিস্ক , স্নায়ুতন্ত্র , সন্ধিবন্ধনি , হার ইত্যাদি ।
বালগম বা শ্লেষ্মার প্রকারভেদ :
শ্লেষ্মা দুই প্রকার -
১ , বালগমে তবাঈ বা স্বাভাবিক শ্লেষ্মা।
২ , বালগমে গয়রে তবাঈ বা অস্বাভাবিক শ্লেষ্মা।
১ , বালগমে তবাঈ বা স্বাভাবিক শ্লেষ্মা :
প্রয়োজনের সময় যে শ্লেষ্মা রক্তে পরিনত হওয়ার যোগ্যতা রাখে তাকে বালগমে তবাঈ বলে ।
২ , বালগমে গয়রে তবাঈ বা অস্বাভাবিক শ্লেষ্মা।
অস্বাভাবিক শ্লেষ্মা সহজে রক্তে পরিণত হতে পারে না বা হলেও অনেক কষ্টে ও বিলম্বে । অস্বাভাবিক শ্লেষ্মা দুদিক থেকে বিভাজিত ।
১ , স্বাদগত বিভাজন ।
২ , ঘনত্বগত বিভাজন ।
১ , স্বাদগত বিভাজন ।
(ক) বালগমে মালেহ্ বা লবণাক্ত শ্লেষ্মা
ইহা উষ্ণ ও শুষ্কতার অনুগামী ।
(খ) বালগমে হামেয বা অম্লীয় শ্লেষ্মা।
ইহা শীতল ও শুষ্কতার অনুগামী।
(গ) বালগমে মাসীখ বা স্বাদহীন শ্লেষ্মা।
ইহা একেবারেই শীতল ও কাঁচা ।
(ঘ) বলগমে আফেস বা কষায় স্বাদ শ্লেষ্মা।
ইহা শীতল ও শুষ্কতার অনুগামী।
২ , ঘনত্বগত বিভাজন ।
(ক) বালগমে মুখতী বা নাকের শ্লেষ্মার মত বিভিন্ন ঘনত্বের শ্লেষ্মা ।
ইহা বাস্তবিক ও বাহ্যিক একই রকম ।
(খ) বালগমে খাম বা কাঁচা শ্লেষ্মা।
ইহা দেখতে বাহ্যিকভাবে একই রকম দেখা গেলেও প্রকৃতপক্ষে এক নয় ।
(গ) বালগমে মা-য়ী বা পানির মত শ্লেষ্মা।
(ঘ) বালগমে জাস্সী বা গাঢ় ও সাদা শ্লেষ্মা ( দধী সদৃশ )।
(ঙ) বালগমে যুজাজী বা গলিত কাঁচ সদৃশ শ্লেষ্মা ।
* গন্ধগত বিভাজন :
এছাড়াও গন্ধগত দিক থেকে অস্বাভাবিক শ্লেষ্মার আরেকটি প্রকার রয়েছে । ইহা পঁচন জনিত কারনে সৃষ্টি হয় । এটার একটি মাত্র প্রকার । তা হচ্ছে বালগমে মুন্তিন বা পুঁতীগন্ধ শ্লেষ্মা।
সফরা বা পিত্ত :
------------
রক্ত এবং শ্লেষ্মার পরই পিত্তের স্থান । ইহা রক্তের ফেনা বিশেষ । ইহার রং যর্দ (লাল মিশ্রিত হলুদ) । ইহা রক্তের তুলনায় হালকা ও তেজস্কর । উষ্ণতার পরিমাণ যত বেশি হয় ইহার রং তত লাল হয় ।
সফরা বা পিত্তের প্রকারভেদ :
পিত্ত দুই প্রকার -
১ , সফরা তবাঈ বা স্বাভাবিক পিত্ত।
২ , সফরা গয়রে তবাঈ বা অস্বাভাবিক পিত্ত।
১ , সফরা তবাঈ বা স্বাভাবিক পিত্ত।
মিযাজে সফরা বা পিত্তের প্রকৃতি -
পিত্তের মিযাজ প্রকৃতি হার ওয়া ইয়াবিস বা উষ্ণ ও শুষ্ক ।
যকৃতে তৈরি পিত্ত দুই ভাগে বিভক্ত হয় ।
১ , কিছু অংশ রক্তের সাথে মিশে প্রবাহিত হয় । এ অংশ পিত্ত গ্রহনকারী অঙ্গসমূহের খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করে। এবং রক্তের তারল্যতা বিধান করে সূক্ষ্ম রাস্তায় পৌছতে সহায়তা করে ।
২ , কিছু অংশ পিত্তথলিতে চলে যায় ।
অতিরিক্ত পিত্ত রক্তে না মিশে পিত্তথলিতে চলে যায় ; যাতে দেহ সুস্থ থাকে।
সর্বপরি পিত্তের প্রয়োজন ও উপকার গুলো নিম্নরূপ :
১ , রক্তকে তরল করে ।
২ , পিত্ত গ্রহনকারী অঙ্গের খাদ্য যোগান দেয় ।
৩ , অন্ত্রকে পরিষ্কার করে ও সঞ্চালিত করে ।
৪ , আন্ত্রিক কৃমি ধ্বংস করে ।
৫ , পঁচন রোধ করে ।
৬ , পাকস্থলীর উষ্ণতা সৃষ্টি করে হজমে সহায়তা করে ।
২ , সফরা গয়রে তবাঈ বা অস্বাভাবিক পিত্ত :
শ্লেষ্মার মত স্বাদ এবং ঘনত্বের দিক থেকে পিত্তকে বিভক্ত করা হয় না । কারণ স্বাদ ও ঘনত্বের দিক থেকে প্রায় সকল পিত্তই একই রকম । রং এর ভিত্তিতে অস্বাভাবিক পিত্তকে বিভাজন করা হয়।
পিত্তের এ অস্বাভাবিকতা বা বিকৃতি দু-ভাবে হয় ।
১ , ধাতুরসের মিশ্রন জনিত অস্বাভাবিকতা ।
২ , স্বগত অস্বাভাবিকতা।
১ , ধাতুরসের মিশ্রন জনিত অস্বাভাবিকতা -
এটি দুই ভাগে বিভক্ত -
(ক) শ্লেষ্মার মিশ্রনে :
বাহ্যিকভাবে শ্লেষ্মা মিশে সৃষ্টি হয় । ইহা অধিকাংশ সময় যকৃতে উৎপন্ন হয় । কিছুটা পাকস্থলীতেও উৎপন্ন হয় ।
(খ) অম্লের মিশ্রনে :
বাহ্যিকভাবে অম্ল মিশে সৃষ্টি হয় ।
(ক) শ্লেষ্মার মিশ্রনে :
ইহা দুই প্রকার -
১ , মিররায়ে সফরা বা হলুদ পিত্ত।
তরল শ্লেষ্মার মিশ্রনে তৈরী হয় ।
২ , মিররায়ে মুহিয়্যাহ্ বা যর্দি পিত্ত ।
গাঢ় শ্লেষ্মার মিশ্রনে তৈরী হয় । ইহার রং ডিমের কুসুম সদৃশ ।
(খ) অম্লের মিশ্রনে :
ইহাকে মিররা মুহতারিকহ বা বিদগ্ধ পিত্তও বলে । ইহা দুইভাবে বিদগ্ধ হয় বা অম্ল মিশ্রিত হয় ।
১ , পিত্ত স্বগতভাবে বিদগ্ধ হয়ে ।
যে পিত্ত থেকে বিদগ্ধ অংশ পৃথক হয় না । ইহা খুবই খারাপ ধরনের পিত্ত ।
২ , বাহ্যিকভাবে অম্ল পিত্তের সাথে মিশে ।
এ প্রকারের পিত্ত খুব খারাপ নয় । এর রং লাল , তবে নিগুঢ় লাল নয় । অনেকটা রক্তের সাথে মিল কিন্তু রক্তের চেয়ে তরল । কখনও এ রং বিভিন্ন কারণে ও পরিবর্তন হয়ে থাকে ।
২ , স্বগত অস্বাভাবিকতা।
ইহা দুই প্রকার
১ , যাহার অধিকাংশ যকৃতে উৎপন্ন হয় ।
২ , যাহার অধিকাংশ পাকস্থলীতে উৎপন্ন হয় ।
১ , যাহার অধিকাংশ যকৃতে উৎপন্ন হয় ।
উহা দুই প্রকার -
(ক) মিররায়ে সফরা বা হলুদ পিত্ত ।
বিদগ্ধ রক্তের লাতীফ বা সূক্ষ্ম অংশ দ্বারা তৈরী।
(খ) মিররায়ে সাওদা বা অম্লীয় পিত্ত ।
বিদগ্ধ রক্তের কাছীফ বা গাঢ় অংশ দ্বারা তৈরী।
২ , যাহার অধিকাংশ পাকস্থলীতে উৎপন্ন হয় ।
ইহা দুই প্রকার ।
(ক) সফরায়ে কুররাছী বা সবুজ পিত্ত।
(খ) সফরায়ে যিনজারী বা আকাশী পিত্ত।
(ক) সফরায়ে কুররাছী বা সবুজ পিত্ত :
যর্দী পিত্ত বিদগ্ধ হয়ে কালো বর্ণ ধারণ করে , এ কালো বর্ণের সাথে যর্দী পিত্তের মূল রং মিশে কিছুটা সবুজ বর্ণ ধারণ করে ; ইহাকে সফরা কুররাছী বা সবুজ পিত্ত বলে । কুররাছী শব্দের অর্থ " গন্ধনা " । ইহা রং গন্ধনা শাকের ন্যায় গাঢ় সবুজ বিদায় ইহাকে কুররাছী বলা হয় ।
(খ) সফরায়ে যিনজারী বা আকাশী পিত্ত :
সবুজ পিত্ত আরো বিদগ্ধ হয়ে রসপদার্থ শুন্য হয় এবং সাদাটে হয়ে যায় ; ইহাকে সফরা যিনজারী বা আকাশী পিত্ত বলে । যঙ্গার এর বর্ণ অনেকটা ছাই বা আকাশী বর্ণের ।
আমরা জানি উষ্ণতা আর্দ্র বস্তুকে কালো করে দেয় এবং রস শূন্য হয়ে একপর্যায়ে কালো ভাব দূর হয়ে সুভ্রতা প্রকাশ করে ।
৪ , সাওদা বা অম্ল :
--------------
সাওদা বা অম্ল দুই প্রকার ।
১ , সাওদায়ে তবাঈ বা স্বাভাবিক অম্ল ।
২ , সাওদায়ে গয়রে তবাঈ বা অস্বাভাবিক অম্ল।
১ , সাওদায়ে তবাঈ বা স্বাভাবিক অম্ল :
স্বাভাবিক অম্ল হচ্ছে রক্তের বর্জ । ইহাকে রক্তের তলানি হিসেবে বিবেচনা করা হয় । ইহার স্বাদ কিছুটা মিষ্টি ও কষ যুক্ত ।
তলানি শুধু রক্ত থেকেই হয় । শ্লেষ্মা এবং অম্ল থেকে হয় না । শ্লেষ্মার ভিতরে আঠালো ভাব এতই বেশি যে কোন বস্তু তলানি হিসেবে থাকতে পারে না । পিত্তের ভিতর সুক্ষতার পরিমাণ বেশি হওয়ায় উহাতে মাটি জাতীয় অংশ কম । ইহা সবসময়ই বিদগ্ধ হতে থাকে । রক্ত থেকে যে পরিমাণ পিত্ত আলাদা হয় উহার পরিমাণ একেবারেই কম , এজন্য পিত্ত থেকে যে পরিমাণ তলানি হয় তা কোন হিসাব করা যায়না । এবং যখন কিছু তলানি হয়ও , তাহা স্থিতিশীল হয় না । বরং দ্রুত পঁচে যায় বা বের হয়ে যায় । অতএব যখন উহা পঁচে যায় তখন উহার সূক্ষ্ম অংশ উড়ে যায় এবং গাঢ় অংশ বিদগ্ধ অম্ল হিসাবে বিদ্যমান থাকে ; তলানি হিসেবে নয় ।
মিযাজে সাওদা বা অম্লের স্বভাব :
অম্লের স্বভাব বারিদ ওয়া ইয়াবিস বা শীতল ও শুষ্ক । আবার অম্লের কোন কোন অংশ শীতল এর বিপরীত উষ্ণ হয় । এ উষ্ণতা পিত্তের চেয়ে কম এবং রক্তের চেয়ে বেশী ।
যকৃতে উৎপন্ন অম্ল দুই ভাগে বিভক্ত ।
১ , রক্তে মিশে প্রবাহিত হয়।
২ , প্লীহায় জমা হয় ।
১ , রক্তে মিশে প্রবাহিত হয়।
যে অংশ রক্তের সাথে মিশে প্রবাহিত হয় উহা রক্তকে গাঢ় এবং দৃঢ় করে । এবং রক্তের সাথে মিশে বিভিন্ন অঙ্গের খাদ্য যোগান দেয় । যেমন - অস্থি , কোমলাস্থি , প্লীহা ও যে সকল অঙ্গ কম-বেশ কালোবর্ণ, এবং ঐ সকল অঙ্গ , যাতে অম্ল পরিবর্তীত হয়ে রং পরিবর্তনের মাধ্যমে খাদ্যে পরিণত হয় ।
২ , প্লীহায় জমা হয় ।
উহা রক্তে না মিশে প্লীহাতে জমা হয় । যাতে করে দেহ অতিরিক্ত অম্ল থেকে রক্ষা পায় এবং প্লীহার খাদ্যের যোগান দেয়।
অম্ল পাকস্থলীর মুখকে দৃঢ় ও শক্তিশালী করে এবং পাকস্থলীর মুখে এসে সুরসুরি দেয় ; যাতে ক্ষুধার উদ্রেক হয় ও খাদ্য চাহিদা বৃদ্ধি পায় ।
প্রকাশ থাকে যে অম্লের যে অংশ রক্তে মিশ্রনের প্রয়োজন হয়না তাহা প্লীহাতে চলে যায় । এবং প্লীহার অতিরিক্ত অংশ পাকস্থলীর মুখে এসে সুরসুরি দিয়ে কুওয়াতে জাযেবা বা চোষন শক্তির সৃষ্টি করে ।
পিত্তের যে অংশ রক্তে মিশ্রনের প্রয়োজন হয়না তাহা পিত্ত থলীতে চলে যায় । পিত্ত থলীর অতিরিক্ত অংশ অন্ত্রে পরে কুওয়াতে দাফিআহ্ বা নিক্ষেপক শক্তির সৃষ্টি করে ।
সর্বপরি অম্লের প্রয়োজন ও উপকার গুলো নিম্নরূপ ।
১ , রক্তের ঘনত্ব বৃদ্ধি করে ।
২ , বিভিন্ন অঙ্গের খাদ্য যোগান দেয় ।
৩ , খাদ্য চাহিদা সৃষ্টি করে ।
২. আহওয়ালে বদন বা শারীরিক অবস্থা সমুহ (Body conditions)।
যথা :
আহওয়ালে বদন বা শারীরিক অবস্থা সমুহ (states of the body)-
ইউনানী
চিকিৎসাশাস্ত্রের তত্ত্ববিষয়ক অংশের দ্বিতীয়টি অধ্যায়টি হচ্ছে আহওয়ালে
বদন বা শারীরিক অবস্থা সমূহ। আরবী হাল শব্দের বহুবচন আহওয়াল ; অর্থ
অবস্থা । এবং বদন শব্দের অর্থ শরীর বা দেহ। অতএব আহওয়ালে বদন অর্থ হচ্ছে
শারীরিক অবস্থা সমূহ।
হাকীম জালীনুস এর মতে শারীরিক অবস্থা তিনটি ।
১. সেহাত বা সুস্থতা / স্বাস্থ্য।
২. অসুস্থতা বা রোগ।
৩. লা-সেহাত ও লা-মরজ বা না-স্বাস্থ্য ও
না-রোগ। এটাকে হালাতে মুতাওয়াসসেতাহ্ ও বলে।
সেহাত্ বা স্বাস্থ্য (Health) -
হাকীম জালীনুস এর মতে -
দেহের
ক্রিয়া সমূহ মিযাজ বা প্রকৃতি ও তারকীব বা গঠনগত দিক থেকে সঠিক
স্বাভাবিক ও নিয়মিত সম্পন্ন হওয়াকে সেহাত বা সুস্থতা তথা স্বাস্থ্য বলে।
মরজ বা রোগ (Disease)-
সেহাত
বা সুস্থতার বিপরীত অবস্থা হচ্ছে মরজ বা রোগ। দেহের ক্রিয়া সমূহ সম্পূর্ণ
সঠিক স্বাভাবিক ও ত্রুটিমুক্ত না থাকাকে মরজ বা রোগ বলে।
রোগ দুই প্রকার-
১. মরজে মুফরাদ বা একক রোগ।
২. মরজে মুরাক্কাব বা যৌগিক রোগ।
১. মরজে মুফরাদ -
যে রোগ এক বা একাধিক রোগের সাথে যুক্ত হয়ে একটিমাত্র রোগে পরিণত হয়নি তাকে মরজে মুফরাদ বলে।
মরজে মুফরাদ তিন প্রকার-
ক) একক অঙ্গে আক্রমনকারী রোগ। এ জাতীয় রোগকে সূয়ে মিযাজ বা বিঘ্ন মিযাজের রোগ বলে।
খ) যৌগিক অঙ্গে আক্রমনকারী রোগ। এ জাতীয় রোগকে আমরাজে তারকীব বা গঠনগত রোগ বলে।
গ) একক ও যৌগিক অঙ্গে আক্রমনকারী রোগ।
এ জাতীয় রোগকে আমরাজে তাফাররুকে ইত্তেসাল বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন রোগ বলে।
ক) একক অঙ্গে আক্রমনকারী রোগ তথা বিঘ্ন মিযাজের রোগ -
এগুলো ষোল প্রকার -
মিযাজে
গায়রে মুতাদিলের আট প্রকার। যথা- ১.হার ২. বারেদ ৩. ইয়বিস ৪. রতব ৫.
হার ও ইয়বিস ৬. হার ও রতব ৭. বারেদ ও ইয়বিস ৮. বারেদ ও রতব।
আবার এর প্রতিটি দুই প্রকার ; যথা- ১. সাযিজ বা বাহ্যিক ২. মাদ্দী বা বস্তুগত । মোট ষোল প্রকার।
খ) যৌগিক অঙ্গে আক্রমনকারী রোগ তথা আমরাজে তারকীব বা গঠনগত রোগ -
এ গুলো চার প্রকার-
১. আমরাজে খিলকত বা আকৃতি গত রোগ।
২. আমরাজে মেকদার বা পরিমাপ গত রোগ।
৩. আমরাজে আদাদ বা সংখ্যাগত রোগ।
৪. আমরাজে ওয়াযয় বা বিন্যাসগত রোগ।
লা-ছেহাত ও লা-মরজ বা না-রোগ ও না-স্বাস্থ্য (No-Health : No-Disease) :
এটাকে হালাতে মুতাওয়াসসেতাহ্ ও বলে।
শারীরিক এমন অবস্থাকে বুঝায় যাহা পূর্ণ সুস্থতা অথবা রোগ এর কোন পর্যায়ে পরেনা।
৩- নবয বা নাড়ী (Pulse), বাওল বা মুত্র (Urine), বারায বা মল (Stool) এর পূর্ণ বিবরণ।
নবয বা নাড়ী (Pulse) :
নবয শব্দের অর্থ ধমনীর স্পন্দন ।
ধমনী সমূহের ওয়াযয় বা বিন্যাস তথা সম্প্রসারন ও সঙ্কোচনগত পরিবর্তনের হরকত বা স্পন্দনকে নবয বা নাড়ী বলে।
আজনাসে নবয বা নাড়ীর প্রজাতি
দশটি -
১. মিকদার বা পরিমাণ।
২. কাইফিয়াতে করয় বা ঠোক্করের অবস্থা।
৩. যামানায়ে হরকত বা স্পন্দন কাল।
৪. কেওয়ামে আলাহ্ বা রসপদার্থের ঘনত্ব।
৫. যামানায়ে সুকূন বা বিরাম কাল।
৬. মলমসে আলাহ্ বা নাড়ীর স্পর্শন অবস্থা।
৭. রতূবাতে নবয বা নাড়ীর রসপদার্থ।
৮. ইস্তাওয়া ওয়া ইখতিলাফবা দৃঢ়তা ও ভিন্নতা।
৯. নেযাম ওয়া আদমে নেযাম বা শৃংখল ও শৃংখলহীন।
১০. ওযন বা পরিমাপ।
১. মিকদার বা পরিমাণ।
দৈর্ঘ্য প্রস্থ ও গভীরতার দিক থেকে একক দশটি -
(ক) ত্বউইল (খ) কাছীর (গ) মুতাদিল (ঘ) আরীয (ঙ) যায়ীক (চ) মুতাদিল (ছ) মুশরিফ (জ) মুনখফিয (ঞ) মুতাদিল।
দৈর্ঘ্য প্রস্থ ও গভীরতার একটিকে অপরগুলোর সাথে সংযুক্ত করলে মুরাক্কাব বা যৌগিক হয় সাতাইশটি।
২. কাইফিয়াতে করয় বা ঠোক্করের অবস্থা।
এ দিক থেকে নবয তিন প্রকার-
ক) কউই খ) যঈফ গ) মুতাদিল।
৩. যামানায়ে হরকত বা স্পন্দন কাল।
এ দিক থেকে নবয তিন প্রকার-
ক) সরী খ) বতী গ) মুতাওয়াসসিত।
৪. কেওয়ামে আলাহ্ বা রসপদার্থের ঘনত্ব।
এ দিক থেকে নবয তিন প্রকার-
ক) সুলব খ) লাইয়েন গ) মুতাওয়াসসিত।
৫. যামানায়ে সুকূন বা বিরাম কাল।
এ দিক থেকে নবয তিন প্রকার-
ক) মুতাওয়াতির খ) মুতাফায়েত গ) মুতাওয়াসসিত।
৬. মলমসে আলাহ্ বা নাড়ীর স্পর্শন অবস্থা।
এ দিক থেকে নবয তিন প্রকার-
ক) হার খ) বারেদ গ) মুতাওয়াসসিত।
৭. রতূবাতে নবয বা নাড়ীর রসপদার্থ।
এ দিক থেকে নবয তিন প্রকার-
ক) মুমতালী খ) খালী গ) মুতাওয়াসসিত।
৮. ইস্তাওয়া ওয়া ইখতিলাফবা দৃঢ়তা ও ভিন্নতা।
এ দিক থেকে নবয দুই প্রকার-
ক) মুসতাউই খ) মুখতালিফ।
৯. নেযাম ওয়া আদমে নেযাম বা শৃংখল ও শৃংখলহীন।
এ দিক থেকে নবয দুই প্রকার-
ক) মুখতালিফ মুনতাযিম খ) মুখতালিফ গায়রে মুনতাযিম।
১০. ওযন বা পরিমাপ।
এ দিক থেকে নবয দুই প্রকার-
ক) জায়্যিদুল ওযন খ) সাইয়্যিউল ওযন।
আবার সাইয়্যিউল ওযন তিন প্রকার-
১. মুজাদিরুল ওযন ২. মুবায়িনুল ওযন ৩. খারিজুল ওযন।
কয়েকটি মুরাক্কাব বা যৌগিক নাড়ীর নাম -
১.নবযে
আযীম ২. নবযে সগীর ৩. নবযে মেনশারী ৪. নবযে মওজী ৫. নবযে দূদী ৬. নবযে
নমলী ৭. নবযে জানবুল ফার ৮. নবযে মেতরাকী ৯. নবযে যুল ফিতরাত ১০. নবযে
ওয়াকেয় ফিল ওয়াস্ত ১১. নবযে গাযালী ১২. নবযে মেসাল্লী ১৩. নবযে মুরতাইশ
১৪. নবযে মুলতউই
বাওল বা মুত্র (Urine) :
বাওল
আরবী শব্দ। অর্থ - মুত্র বা প্রস্রাব। ইউনানী পরিভাষায় মুত্র পরীক্ষার
পাত্রকে কারূরাহ্ বলে। তবে ইউনানী চিকিৎসক গণ পরীক্ষার জন্য নিয়ে আসা
মুত্রকেও কারূরাহ্ নামে অবহিত করেন।
উভয় বৃক্ক হতে
চুইয়ে মূত্র প্রবাহী নালীর মাধ্যমে মুত্রাধারে জমা হওয়া এবং মুত্রাধার
থেকে মূত্রনালীর মাধ্যমে নিঃসৃত আসার তরল পদার্থ হচ্ছে মূত্র। একজন সুস্থ
যুবকের দেহে চব্বিশ ঘন্টায় ১৭৫০ মিলিলিটার মূত্র উৎপন্ন হয়। মুত্র দ্বারা
যকৃত, মুত্রযন্ত্রাদি ও শিরা সমূহের অবস্থা জানা যায় এবং এ অবস্থার
মাধ্যমে শরীরের অন্যান্য অঙ্গের রোগ প্রভৃতির অবস্থাও অবগত হওয়া যায় ।
মূত্র পরীক্ষায় সুস্থতা ও রোগ নির্ণয়ক নিদর্শনরূপে সাতটি বিষয় পরিগণিত।
১.
লাওন বা বর্ণ ২. কেওয়াম বা ঘনত্ব ৩. সফা ওয়া কদূরত বা স্বচ্ছতা ও
অস্বচ্ছতা ৪. রায়েহা বা গন্ধ ৫. যবদ বা ফেনা ৬. রুসূব বা তলানী ৭. মিকদার
বা পরিমাণ।
বারায বা মল (Stool) :
বারায আরবী শব্দ। অর্থ - মল (Stool)।
ভুক্ত খাদ্যদ্রব্য পাকস্থলী ও অন্ত্রনালী সমূহে পরিপাকের পর সরলান্ত্র হয়ে মলনালির পথে যে গাঢ় অসার পদার্থ নির্গত হয় তাহাই মল।
একজন সুস্থ যুবকের দেহে চব্বিশ ঘন্টায় ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম মল উৎপন্ন হয়। পানাহারের ভিত্তিতে এর পরিমাণ হ্রাস বা বৃদ্ধি পায়।
আমাদের
আহার্য্য খাদ্যের সারাংশ পাকস্থলী ও অন্ত্র হতে শোষিত হয়ে দেহ পরিপোষনের
নিমিত্তে যকৃতে চলে যায় এবং অবশিষ্ট অংশ পিত্তরসের প্রভাবে ক্রমান্বয়ে
নিম্নমুখী হতে থাকে। অবশেষে সরলান্ত্রে পৌঁছে শুষ্ক হয়। এবং পিত্তরসের
তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবেই মলত্যাগের প্রবৃত্তি জাগে।
মল পরীক্ষায় সুস্থতা ও রোগ নির্ণয়ক নিদর্শনরূপে তিনটি বিষয় পরিগণিত।
১. লাওন বা বর্ণ ২.মিকদার বা পরিমাণ ৩. কেওয়াম বা ঘনত্ব ।
উৎকৃষ্ট মলের বৈশিষ্ট্য -
ক) মল স্বাভাবিকভাবে সহজে নির্গত হবে।
খ) উহার সকল অংশ একই রূপ হবে।
গ) হালকা অগ্নিবর্ণ (হলুদ) হবে।
ঘ) উপযুক্ত ও পরিমিত ঘনত্বের হবে।
ঙ) পরিমাণ হবে পরিমিত।
চ) খাদ্যদ্রব্য পরিপাকের পর যথোপযুক্ত সময়ে নির্গত হবে।
ছ) গন্ধ হবে পরিমিত এবং অত্যাধিক দুর্গন্ধ থাকবে না।
জ) নির্গত হওয়ার সময় পেটে কোনরুপ করাকের বা গড়গড় শব্দ হবেনা।
ঝ) ফেনা থাকবে না।

No comments