তৃতীয় বর্ষ ২য় সপ্তাহ, কুল্লিয়াতে তিব্ব।
অ্যাসাইনমেন্ট
২য় সপ্তাহ৩য় বর্ষ
কুল্লিয়াতে তিব্ব
**************
১. আহওয়ালে বদন বা শারীরিক অবস্থা সমুহ (states of the body)।
(ক) সেহাত্ বা স্বাস্থ্য (Health), মরজ বা রোগ (Disease), মরজে মুরাক্কাব বা
যৌগিক রোগ (complex disease) এর সংজ্ঞা।
২. আলামাত বা লক্ষন সমূহ (symptoms) ।
মিযাজ এর লক্ষণ সমূহ । পিত্ত প্রাধান্যের লক্ষণাদি , রক্ত প্রাধান্যের
লক্ষণাদি, শ্লেষ্মা প্রাধান্যের লক্ষণাদি, অম্ল প্রাধান্যের লক্ষণাদি। স্বপ্ন,
লক্ষণ নির্দেশক আনুষঙ্গিক বিষয়াদি , আমরাজে তারকীব বা গঠন কাঠামোগত রোগ সমূহ
(structural disease) এর লক্ষণাদি । রিয়া বা বায়ুর লক্ষণাদি।
******************************
১. আহওয়ালে বদন বা শারীরিক অবস্থা সমুহ (states of the body)।
(ক) সেহাত্ বা স্বাস্থ্য (Health), মরজ বা রোগ (Disease), মরজে মুরাক্কাব বা
যৌগিক রোগ (complex disease) এর সংজ্ঞা।
------------------------------
আহওয়ালে বদন বা শারীরিক অবস্থা সমুহ (states of the body)-
ইউনানী চিকিৎসাশাস্ত্রের তত্ত্ববিষয়ক অংশের দ্বিতীয়টি অধ্যায়টি হচ্ছে
আহওয়ালে বদন বা শারীরিক অবস্থা সমূহ। আরবী হাল শব্দের বহুবচন আহওয়াল ; অর্থ
অবস্থা । এবং বদন শব্দের অর্থ শরীর বা দেহ। অতএব আহওয়ালে বদন অর্থ হচ্ছে
শারীরিক অবস্থা সমূহ।
শাইখুর রঈস হাকীম বূ-আলী ইবনে সিনার মতে শারীরিক অবস্থা দুইটি ।
১. সেহাত বা সুস্থতা / স্বাস্থ্য।
২. অসুস্থতা বা রোগ।
হাকীম জালীনুস এর মতে শারীরিক অবস্থা তিনটি ।
১. সেহাত বা সুস্থতা / স্বাস্থ্য।
২. অসুস্থতা বা রোগ।
৩. লা-সেহাত ও লা-মরজ বা না-স্বাস্থ্য ও
না-রোগ। এটাকে হালাতে মুতাওয়াসসেতাহ্ ও বলে।
সেহাত্ বা স্বাস্থ্য (Health) -
মনিষী ইবনে সিনার মতে -
দেহের ক্রিয়া সমূহ সম্পূর্ণ সঠিক স্বাভাবিক ও ত্রুটিমুক্ত থাকাকে সেহাত বা
সুস্থতা তথা স্বাস্থ্য বলে।
হাকীম জালীনুস এর মতে -
দেহের ক্রিয়া সমূহ মিযাজ বা প্রকৃতি ও তারকীব বা গঠনগত দিক থেকে সঠিক
স্বাভাবিক ও নিয়মিত সম্পন্ন হওয়াকে সেহাত বা সুস্থতা তথা স্বাস্থ্য বলে।
মরজ বা রোগ (Disease)-
সেহাত বা সুস্থতার বিপরীত অবস্থা হচ্ছে মরজ বা রোগ। দেহের ক্রিয়া সমূহ
সম্পূর্ণ সঠিক স্বাভাবিক ও ত্রুটিমুক্ত না থাকাকে মরজ বা রোগ বলে।
মরজে মুরাক্কাব বা যৌগিক রোগ (complex disease) -
একক রোগের বিভিন্ন প্রকারের মধ্য থেকে দুই বা ততোধিক রোগ একত্রিত হলে এবং
একাধিক রোগের সমষ্টি এক নামে অবহিত হলে তাকে মরজে মুরাক্কাব বা যৌগিক রোগ বলে।
-----------------------------
২. আলামাত বা লক্ষন সমূহ (symptoms) ।
মিযাজ এর লক্ষণ সমূহ । পিত্ত প্রাধান্যের লক্ষণাদি , রক্ত প্রাধান্যের
লক্ষণাদি, শ্লেষ্মা প্রাধান্যের লক্ষণাদি, অম্ল প্রাধান্যের লক্ষণাদি। স্বপ্ন,
লক্ষণ নির্দেশক আনুষঙ্গিক বিষয়াদি , আমরাজে তারকীব বা গঠন কাঠামোগত রোগ সমূহ
(structural disease) এর লক্ষণাদি । রিয়া বা বায়ুর লক্ষণাদি।
------------------------------
মানুষের মিযাজ এর আলামাত বা লক্ষণ সমূহ নিম্নরূপ -
১। মালমাস ( স্পর্শ করার স্থান ) :
মুতাদিল মিযাজ বিশিষ্ট কোন ব্যক্তি যদি মুতাদিল অঞ্চলে কোন মানব দেহ স্পর্শ
করে উষ্ণতা শীতলতা আর্দ্রতা ও শুষ্কতার দিক থেকে স্বাভাবিক অনুভব করে তবে
স্পর্শ কৃত ব্যক্তির মিযাজ স্বাভাবিক । যদি উষ্ণতা অনুভব করে তবে উষ্ণ । যদি
শীতলতা অনুভব করে তবে শীতল । যদি কোমলতা অনুভব করে তবে আর্দ্র । এবং যদি খসখসে
অনুভব করে তবে শুষ্ক নির্দেশ করে ।
২। লাহাম , শাহাম ও সামীন ( গোশ্ত , জমাট ও হালকা চর্বি ) :
গোশ্তের আধিক্যতা দ্বারা উষ্ণ ও আর্দ্র বুঝায় । শরীর যদি হালকা হয় এবং লাল
রংয়ের হয় গোশ্তের পরিমাণ কম হয় ও চর্বির আধিক্যতা না থাকে তবে উষ্ণ ও শুষ্ক
। শাহাম বা সামীন এরা আধিক্যতা শীতলতা ও আর্দ্রতার পরিচায়ক । এগুলো শরীরকে
কোমল করে দেয় । সাহাম ও সামীন এর স্বল্পতা উষ্ণতার চিহ্ন । চর্বির আধিক্যতার
সহিত গোশ্তের আধিক্যতা আর্দ্রতার পরিচায়ক ।
৩। শার ( চুল ) :
চুল দ্রুত উদগমন শুষ্কতার পরিচায়ক । আধিক্যতা উষ্ণতার পরিচায়ক ।
স্বল্পতা আর্দ্রতার লক্ষণ । মোটা চুল ( بخار دخانيه )
বুখ-রে দুখ-নিয়্যাহ্ (ধুমায়িত বাষ্প ) এর লক্ষণ । চিকন চুল ধুমায়িত বাষ্প
স্বল্পতার চিহ্ন । কোকড়ানো চুল উষ্ণ ও শুষ্কতার লক্ষণ । সোজা চুল শীতল ও
আর্দ্রতার লক্ষণ । কালো রং উষ্ণতা পিয়াজি রং শীতলতার লক্ষণ ।যর্দ মিশ্রিত লাল
ও লাল মুতাদিলের নিকটবর্তী হওয়ার চিহ্ন। সাদা চুল শীতলতা ও আর্দ্রতা বা
শুষ্কতার পরিচায়ক ।
৪। লাওনে বদন ( গাত্র বর্ণ ) :
দেহের শ্বেত বর্ণ শীতলতা ও শ্লেষ্মা প্রাধান্যের লক্ষণ । লাল বর্ণ উষ্ণতা ও
রক্তাধিক্যের পরিচয় বহন করে । লাল মিশ্রিত যর্দ রং উষ্ণতার চিহ্ন ।
শ্বেত ও লাল বর্ণের মিশ্রন উষ্ণতা ও শীতলতার ক্ষেত্রে পরিমিত ।বাদামী রং
উষ্ণতার লক্ষণ ।
যর্দী রং উষ্ণতা এবং পিত্তাধিক্য অথবা রক্তস্বল্পতা বুঝায় ; যেমনটা সদ্য
রোগমুক্ত রোগীর ক্ষেত্রে প্রকাশ পায় । দেহের কালো ও নীল বর্ণ শীতল ও শুষ্কতার
পরিচায়ক ।
৫। হাইয়াতে আযা ( অঙ্গের গঠন শৈলী ) :
প্রশস্ত বক্ষ , প্রশস্ত ও সুস্পষ্ট শিরা , বৃহদাকৃতির হাত-পা , সুস্পষ্ট জোড়া
উষ্ণতার চিহ্ন । উহার বিপরীত শীতলতা ।
৬। কাইফিয়াতে ইনফিয়াল ( প্রতিক্রিয়াগত অবস্থা ) :
উষ্ণতা শীতলতা ইত্যাদি যে অবস্থা দেহ দ্রুত গ্রহণ করে উহা ঐ অবস্থা
প্রাধান্যের প্রমাণ ।
৭। তবাঈ আফআল ( স্বাভাবিক ক্রিয়া ) :
দেহের সকল ক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন হওয়া বা পরিমিত থাকা মুতাদিল নির্দেশ করে
। অসম্পূর্ণ ও রহিত হয়ে যাওয়া শীতলতার প্রমাণ । কর্মের অস্থিরতা ও চঞ্চলতা
উষ্ণতা বুঝায় , মন্থরতা শীতলতা বুঝায় ।
৮। ফুয্লাতে বদন ( দেহ বর্জ্য ) :
দেহের মলমূত্র ঘাম ইত্যাদি বর্জিয় পদার্থ তীব্র গন্ধযুক্ত ও গাঢ় বর্ণের হওয়া
উষ্ণতা । এর বিপরীত শীতলতা ।
৯। নাওম ওয়া ইয়াকযা ( নিদ্রা ও জাগরন ) : নিদ্রার আধিক্যতা শীতলতা ও আর্দ্রতা
বুঝায় এবং জাগরণের আধিক্যতা উষ্ণতা ও শুষ্কতা বুঝায় । উভয়ের পরিমিততা মুতাদিল
।
১০। ইনফিআলাতে নাফসানিয়্যাহ্ ( মানসিক প্রতিক্রিয়া ) :
হারারাতে নাফসানিয়্যাহ্ বা মানসিক সক্রিয়তা যথা- রাগ , ক্ষোভ , আনন্দ ,
ইত্যাদি তীব্র হওয়া উষ্ণতার লক্ষণ । অপরদিকে অবসন্ন মানসিকতা শীতলতার
পরিচায়ক । মানসিক প্রতিক্রিয়া দীর্ঘ সময় থাকা শুষ্কতার লক্ষণ এবং দ্রুত
বিলীন হওয়া আর্দ্রতার লক্ষণ । ভীরুতা যৌন অক্ষমতা , শীতলতা ও হৃদযান্ত্রিক
দুর্বলতা লক্ষণ । লজ্জাহীনতা , বীরত্ব , সাহসিকতা , উগ্রতা , অতিকথন ,
দ্রুতকথন , ধারাবাহিক ও বিরামহীন কথন উষ্ণতার লক্ষণ । লজ্জা এবং গাম্ভীর্য
আর্দ্রতার পরিচায়ক ।
আলামাতে গল্বায়ে সফরা বা পিত্ত প্রাধান্যের লক্ষণাদি -
দেহ , জিহবা , চোখের পাতা যর্দ বর্ণ হয় । মুখের স্বাদ তিক্ত হয় । জিহবা ,
নাক শুষ্ক মনে হয় , পিপাসা তীব্র হয় । ক্ষুধা হ্রাস পায় । বমি ভাব হয় ।
অস্থিরতা দেখা দেয় । শীতল বায়ুতে প্রশান্তি লাভ হয় । গরমে কষ্ট হয় । নবয
দ্রুত হয় । দেহে সুচ বিদ্ধ হচ্ছে বলে মনে হয় । স্বপ্নে আগুন ও যর্দ রঙের
বস্তু দেখতে পায় ।
আলামাতে গল্বায়ে দাম বা রক্ত প্রাধান্যের লক্ষণাদি -
মস্তিষ্কে ভার বোধ হয় । হাই আসে । তন্দ্রাচ্ছন্ন ও নিদ্রা ভাব হয় ।
স্পর্শানুভূতি হ্রাস পায় । মাঝে মাঝে মুখের স্বাদ মিষ্ট হয় । পরিশ্রম ব্যতীত
ক্লান্তি প্রকাশ পায় । দেহের রং লাল হয় । ফোড়া ফুসকুড়ি দেখা দেয় । নাক ,
দাঁতের মাড়ি , পায়ুপথ ইত্যাদি স্থান থেকে রক্তক্ষরণ হয় । ফাসদে অভ্যস্ত
ব্যক্তির ফাসদের সময় যখন অতিবাহিত হয় । স্বপ্নে রক্ত বা লাল রঙের বস্তু দেখা ।
আলামাতে গল্বায়ে বালগম বা শ্লেষ্মা প্রাধান্যের লক্ষণাদি -
শরীর ও চর্ম শ্বেত ভাব হয । শরীর কোমল , নাজুক ও শীতল হয় । হজম ক্রিয়া
দুর্বল হয় । নিদ্রা বেশি হয় । অনুভূতি হ্রাস পায় । মুখ থেকে লালা নিঃসৃত
হয় । পিপাসা কম হয় ; তবে শ্লেষ্মা লবণাক্ত হলে পিপাসা বেশি হয় । প্রসাব
সাদা হয় । বিবেক বুদ্ধি হ্রাস পায় । নবয কোমল , মন্থর ও সবিরাম হয় ।
স্বপ্নে পানি , নদী , বরফ , বৃষ্টি ,বজ্রপাত দেখা ।
আলামাতে গল্বায়ে সওদা বা অম্ল প্রাধান্যের লক্ষণাদি -
শরীর কৃশ ও কালো হয় । রক্ত গাঢ় হয় । চিন্তামগ্ন হয় । মাথা ও পেট ব্যথা হয় ।
অপ্রকৃত ক্ষুধা হয় । কালো দাগ , দুষিত ক্ষত ও প্লীহা রোগাক্রান্ত হয় ।
স্বপ্নে ভয়ঙ্কর ও কালো কালো বস্তু দেখা ।
যাদের দেহের রং ফর্সা এবং চুল কম তাদের অম্লাধিক্য কম হয় ।
স্বপ্ন -
অনেক সময় স্বপ্ন মানুষের দেহের আখলাত বা ধাতুরস নির্ণয়ে সহায়ক হয়ে থাকে।
স্বপ্নে পীতবর্ণ আকৃতি, অবয়ব দেখা বা আগুন, অগ্নিশিখা দেখা পিত্ত প্রাধান্যের
লক্ষণ। স্বপ্নে অহরহ লাল বর্ণ বা রক্ত প্রবাহ দেখা রক্ত প্রাধান্যের লক্ষণ।
মেঘের গর্জন , বৃষ্টি , বরফ দেখা শ্লেষ্মা প্রাধান্যের লক্ষণ । স্বপ্নে কোনো
কালোবস্তু , ধোঁয়া, ভয়ঙ্কর আকৃতি বা অবয়ব দেখা অম্ল প্রাধান্যের লক্ষণ।
লক্ষণ নির্দেশক আনুষঙ্গিক বিষয়াদি -
লক্ষণ নির্দেশসহ আনুষঙ্গিক বিষয়াদি মধ্যে রয়েছে- মানুষের বয়স , তার বসবাসের
নগরী, তার অভ্যাস, ঋতু এবং তার অতীত কার্যাবলী। এগুলোও নির্দিষ্ট কোন ধাতুরসের
লক্ষণ বলে বিবেচিত হয়।
আমরাজে তারকীব বা গঠন কাঠামোগত রোগ সমূহ (structural disease) এর লক্ষণাদি -
আমরাজে তারকীব বা গঠন কাঠামোগত রোগসমূহের লক্ষণ তিন প্রকার।
১. আলামাতে জাওহারিয়্যাহ্ বা মৌলের লক্ষণ। যা দ্বারা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মৌলিক
বা স্থূল বস্তু বুঝায়।
২. আলামাতে আরযিয়্যাহ্ বা উপসার্গিক লক্ষণ। যা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বাহ্যিক
অবস্থা ও উপসর্গের সহিত সম্পর্কিত । যেমন- অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সৌন্দর্য্য।
৩. আলামাতে তামামিয়্যাহ্ বা পূর্ণতার লক্ষণ। যা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের
ক্রিয়াকর্মের সহিত সম্পর্কিত। অর্থাৎ যা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্রিয়াকর্মের
পূর্ণতা বা অপূর্ণতা বুঝায়।
রিয়া বা বায়ুর লক্ষণাদি -
আরবী রীহুন শব্দের বহুবচন রিইয়্যাহ্ বা রিয়াহ্ । অর্থ বায়ু।
চার প্রকার পরীক্ষার মাধ্যমে দেহে বায়ুর উপস্থিতি সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়।
১. বায়ু সমাবেশের ফলে অনুভূতি শীল অঙ্গসমূহে ব্যথা সৃষ্টির মাধ্যমে।
২. অঙ্গসমূহের নড়াচড়া ও স্পন্দন এর মাধ্যমে।
৩. সংশ্লিষ্ট অঙ্গে শ্রুত আওয়াজের মাধ্যমে। এবং
৪. সংশ্লিষ্ট অঙ্গে হাত দ্বারা অনুসন্ধানের মাধ্যমে।
হাকীম জামাল উদ্দিন
প্রভাষক
ভোলা ইসলামিয়া ইউনানী মেডিকেল কলেজ

No comments